April 19, 2026, 9:38 am

গভীর রাতে দুস্থদের পাশে কম্বল নিয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :নারায়ণগঞ্জের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে হানা দিয়েছে শীত। ফলে শহরের ফুটপাতসহ খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করা আসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে বিপাকে। তাদের অনেকের নেই শীতবস্ত্র। শীতে জবুথবু সেই সব মানুষের গায়ে পরম মমতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির হঠাৎই জড়িয়ে দিলেন কম্বল।

সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বন্দর ঘাট ও চাষাড়া রেলস্টেশনে শীতের কম্বল নিয়ে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির। এসময় তিনি ছিন্নমূল ও দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। কনকনে শীতে হঠাৎ কম্বল পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ছিন্নমূল ও ভাসমান অসহায় মানুষ।

এসব মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে কম্বল নিয়ে নিজেই শীতার্ত মানুষের কাছে শীতবস্ত্র হিসেবে সরকারি কম্বল পৌঁছে দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।

অসহায় আব্দুল মজিদ বলেন, সারাজীবন শুনেই গেছি শীতকালে সরকার কম্বল দেয়। কিন্তু চোখে দেখি নাই। আজ আল্লাহ আমাগো দুয়ারের দারে কম্বল পৌঁছাইয়া দেছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, এই কনকনে শীতে কোনো দুস্থ পরিবার যেন সরকারের বরাদ্দকৃত শীতবস্ত্র থেকে বাদ না পড়ে তাই সরকারের নির্দেশনায় এসব মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন,
শীতের তীব্রতায় যেন কোন অসহায় মানুষ কষ্ট না পায়, সেজন্য জেলা প্রশাসনের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শুধু সদর উপজেলাই নয়, পর্যায়ক্রমে জেলার সকল উপজেলাতেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে-যাতে শীতের রাতে কেউই আর অবহেলিত বা অনাদৃত না থাকে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা